আজ অনেকদিন পর লিখতে বসলাম, হাতের লিখাটাও আর আগের মত নাই, যাচ্ছেতাই লিখা আজকাল। হাতের লিখা দেখে এক সময় আমাকে বলেছিলে “তোমার হাতের লিখা এত সুন্দর কেন?” আর এখন সেই লিখা দেখলে আমি নিজে হাসি। জানি না কেন এই পরিবর্তন, লাইফের সাথে সাথে হাতের লিখার এরকম পরিবর্তন আমি আসলে নিজেই অবাক। চিঠিটা হাতে পাবার পর পড়তে পারবে কিনা জানি না। সেই যাই হোক, লিখাটা শুরু করা হল ঈদ ভেবে। এক এক করে ঈদ পার হয়ে যায়, আর তোমার কথাও ভুলে বসি আজকাল। মনে পড়া জিনিষটা আজকাল ফিল হয় না। আর নিজ থেকে চাইও না তোমার কথা আমার মনে পড়ুক। আজ পড়ছে বলেই পুরানো অভ্যাস, কলম নিয়ে বসে গেলাম। বেশিদিন হয়নি ছেড়ে চলে গিয়েছি দুজন দুজনের জায়গা ছেড়ে। ভাবতে অবাকই লাগে আমাদের দেয়া নিজেদের মিথ্যা আশ্বাসগুলোর কথা মনে পড়লে; পাশাপাশি থাকার ইচ্ছে, না দেখে থাকার আকুতি, কবে দেখা হবে সেই চিন্তায় দিন সপ্তাহ মাস পার করা।
মনে কি আছে তোমার ৪৪২ দিন পর একবার আমাদের দেখা হয়েছিল? টিএসসিতে বসে অনেক আলাপ করেছিলাম নিল কালারের আমার পছন্দের একটা ড্রেস পড়ে এসেছিলে, তোমার মনে না পড়লেও আমার স্পষ্ট মনে আছে। অনেকদিন পর দেখা হয়ে চেহারা অচেনা মনে হচ্ছিল, কিন্তু কথা বলতে বলতে নিজেদের ভাষা নিজেদের চিনিয়ে দিচ্ছিলো। আজকে দিস্তা কাগজ নিয়ে আর বসি নাই, সেই বয়স, এনার্জি নাই এখন আর। জানতে ইচ্ছে করলো কিভাবে ঈদ কাটাচ্ছো? আমার চিঠি পেয়ে থাকলে আশা করবো তোমার উত্তরটা পাবো। আগে আগে তো সারারাত কেটে যেত ফোনে কথা বলে বলে, কি যে বলতাম মনেও নাই, এত কথা কই থেকে বলতাম বা মনে আসতো মনে পড়লে হাসি পায় খালি। মোবাইলের ক্রেডিট শেষ হয়ে যেত কথা শেষ হত না, তখন তো ইমারজেন্সি ব্যলেন্স বলে কিছু ছিলো না কিন্তু আইডিয়াটা আমার মাথায় ছিল তুমিও সেটা জানতে। কথা বলে ভালোই লাগতো। এখন জানো? ৪/৫ মিনিট কথা কারো সাথে বললেই মেজাজটা খারাপ হয়ে যায়।
লিখার প্রতি এখন আর ইচ্ছে আসছে না। বাসার সবাই কেমন আছে? আচ্ছা তোমার পিচ্চি ভাগিনাটা কত বড় হল? তোমার দেয়া ওর ছবিটা এখনো আমার কাছে আছে। আর আমার ল্যাপটপের হার্ডড্রাইভ ক্র্যাশ হয়ে যাওয়ায় তোমার যত ছবি ছিলো সব গেছে। জীবন থেকেই চলে গিয়েছো হার্ডড্রাইভে থেকে আর কি হবে? আর সেই সময় ছবি আমরা এমএমএস করে করে টাকা দিয়ে পাঠাইতাম, এখনকার পোলামাইয়া ফেবু, হোয়াটস এপে পাঠায়। দুনিয়া আগাইয়া গেছে, আমরা সেই জামানা ছাইড়া দিয়া আইছি।
আরেকটা কথা শেয়ার না করে পারলাম না, তোমার দেয়া আমাকে শেষের দিকের কিছু চিঠি আমার ভাগিনা কয়দিন আগে খুজে পেয়ে আমাকেই জায়গা মত দিয়ে গিয়েছে! চিঠিগুলো হাতে পেয়ে পড়ে অনেকক্ষন হেসেছি। একটা সময় গিফট আর চিঠির জ্বালায় কুরিয়ার বেটা বিরক্ত হয়ে যেত।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন