সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

কানাডা জীবন-১

এই হাতটা খুব কম জনেই চিনতে পেরেছে প্রথম দেখায়। হ্যা এটা আমারই হাত। অনেক কঠোর পরিশ্রমী হাত। বলা হয়ে থাকে কঠোর পরিশ্রম সফলতার চাবিকাঠি। কিন্তু, পরিবর্তিত সময়ে এবং কর্পোরেট সংস্কৃতিতে কেবলমাত্র কঠোর পরিশ্রমই সফলতার নিয়ামক নয়। পরিশ্রমের সাথে দরকার বুদ্ধির প্রয়োগ এবং সুদৃঢ় পরিকল্পনা। কিন্তু আপনি নর্থ আমেরিকায় আসবেন আর কঠোর পরিশ্রম করবেন না, তা হবে না। এখানে শিক্ষা অনেক বড় একটা জিনিষ। আপনার বাংলাদেশে হাজার ডিগ্রি আছে, এই দেশে আপনার বাল্টাও গুনবে না কেউ। এখানে এসে কি কাজ করি নাই? যদি বলেন মাটি কাটসেন কিনা? সেটাও করছি। দেশে থাকতে নিজের প্লেটে খেয়ে শেষ করে কোনদিন ধুয়ে রাখি নাই, সেখানে এক ঘন্টায় পাঁচশত প্লেট ধুয়েছি। ঢাকার বাসায় আমার বাথরুম ধোয়ার জন্য বুয়াকে প্রতিমাসে এক্সট্রা টাকা দিসে আম্মু। সেই আমি এখানে এসে সিনেমা হলের একশত বাথরুম ধুয়েছি একরাতে। পেট্রোল পাম্পে কাজ করেছি, খালি হাত তেল পরিষ্কার করেছি। আর গারবেজ ক্লিনিং!! এসব তো রেগুলার কাজ! বিলিয়ন ডলার কোম্পানিতে ইনভেন্টরিতে কাজ করি এখন, বিশ তিরিশ কেজি ওয়েট লিফটিং করা এখন প্রতি মিনিটের কাজ। তারপরও এখানে একটা আশায় আছি মাস্টারসটা শেষ হলেই এ...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

প্রেম VS ভালোবাসা

একটা মেয়ের শরীরের গন্ধ তোমার ভালো লাগে। এইটা হচ্ছে প্রেম। আরেকটা মেয়ে আছে , যাকে তুমি অনুভব করো। তাকে ভালো লাগার জন্য তার উপস্থিতি কিংবা শরীরের গন্ধ লাগে না। এটা হচ্ছে ভালোবাসা। কোন একটা মেয়ের সাথে রুমডেট করলে তুমি আনন্দ পাও। আরেকটা মেয়ে আছে যার কথা ভাবলেই তুমি আনন্দ পাও। প্রথমজন হচ্ছে তোমার প্রেমিকা। দ্বিতীয়জন হচ্ছে তোমার ভালোবাসার মানুষ। তোমার বন্ধু মহলে কোন একটা মেয়ে আছে যার সাথে তুমি গা ঘেঁষে বসার জন্য অস্থির থাকো। এই মেয়েটি হচ্ছে তোমার কামনার বস্তু। একই ভাবে তোমার মস্তিস্কের অন্দরমহলে একটা মেয়ে আছে যার সাথে তুমি গা ঘেঁষে বসার জন্য অস্থির না। কিন্তু তার অনুপুস্থিতির জন্য তুমি অস্থির। তার সাথে কথা বলার জন্য তুমি অস্থির। এই মেয়েটা হচ্ছে তোমার ভালোবাসার মানুষ। একটা মেয়ের নুড পিক দেখার জন্য সব সময় তুমি অপেক্ষা করো। আরেকটা মেয়ে আছে যার নুড পিক তোমার মাথাতেও আসে না । চাইলেও তুমি আনতে পারো না। প্রথমজন হচ্ছে তোমার প্রেমিকা। পরের জন হচ্ছে তোমার ভালোবাসা। একটা মেয়ের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে মজা নেয়ার পরেও তুমি মেয়েটার কথা ওইভাবে চিন্তা করো না। সব কিছু ফোনের ওই মজা পর্যন্তই। কিন্তু ...

গোলাপ, বকুল, মোমবাতি আর জোনাকি

আজ আমার বিয়ে। অভি বলেছে প্রথম রাতে আমরা কিছুতেই ঘুমাব না। প্রথম রাতটা নিয়ে আমাদের অনেক প্ল্যান। বিছানায় গোলাপের পাপড়ি থাকবে ঠিকই। কিন্তু মেঝেতে ছড়ানো থাকবে বকুল। বকুলের গন্ধটা দূর থেকে মিষ্টি। কিন্তু কাছে আনলে অসহ্য রকম তীব্র। তাই ওটাকে মেঝেতে রাখা। ঘর অন্ধকার করা যাবে না। মোমবাতি জ্বলবে সারা ঘরে। প্রথমে বলেছিল জোনাকি পোকা জমিয়ে রাখবে। বিয়ের একমাস আগে ও জঙ্গল ভ্রমনে যাবে শুধুমাত্র জোনাকি পোকা সংগ্রহ করতে। বাক্স বাক্স জোনাকি পোকা ধরে আনবে। তারপর বন্ধ ঘরে অন্ধকারে খুলে দিবে সবগুলো বাক্স। আমি হেসে বললাম, জোনাকি পোকা কিন্তু মাছির মতো সাইজে। স্বভাবেও তার ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। ধরো আমরা বসে আছি খাটের ওপর। সারা ঘরের সব জোনাকি আমাদের হাতে-পায়ে-গায়ে বসছে; নাকের ভিতর কানের ভিতর ঢুকে যাচ্ছে- তখন কী হবে? - তাই তো! মশারি খাটিয়ে দিলে হবে না? - বাসর ঘরে পোকার ভয়ে মশারির ভিতর ঢুকে থাকব। মানে হয় কোন? - তাহলে জোনাকি বাদ। মোমবাতিই জ্বলুক সারা ঘরে। - সেটা মন্দ নয়। কিন্তু হঠাৎ যদি মোমবাতি পড়ে গিয়ে জানালার পর্দা কিংবা বিছানার চাদরে আগুন ধরে যায়! তখন কী হবে? -ধুর ছাই! আগুন ধরবে কেন! আমরা কী মরে...

ধাক্কা

জাস্ট ফ্যামিলির দিকে তাকিয়ে আমি এই বিয়ে করতে যাচ্ছি। বিলিভ কর তোমার মত করে আমি জিবনে কখনও কোনদিন কাউকে ভালোবাসতে পারবোনা। আমি জানি ও কি রকম ভালো, আমি জানি ও সত্যি বলছে। কিন্তু মনটা তো তাও মানে না। যেভাবে পারি, যতশক্তি দিয়ে পারি সব কিছু দুমড়ে মুচড়ে ফেলে ওকে আমার কাছে রেখে দিতে মন চায়! ও শুধু চলে যাবার জন্য আমার অনুমতির অপেক্ষা করছে। আমি হা করে তাকিয়ে থাকি, চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। কি বলব বুঝতেছিনা। অবশেষে বললাম, নাহ আমি তোমাকে ছাড়বোনা। আমি পারবনা, আমি জানি আমি অনেক শক্ত একটা ছেলে, কিন্তু আমি এটা পারবোনা। ও দুহাত দিয়ে আমাকে ঝাকি মেরে বলে তাহলে দেখ। আমি ফেলফেল করে ওর দিকে তাকিয়ে দেখি ও জামার হাতা গুটিয়ে কাধ পর্যন্ত উঠাচ্ছে। আমাকে দেখাল ওর শরীরে কি বিষম দাগ! আমার জন্য ও এমনভাবে মার খেল! কিছু বলতে পারছিনা। চোখ দিয়ে পানির প্রবাহ আরো বেড়ে গেল। তারপর ও বলল, তুমি কি আরো দাগ দেখতে চাও? আমার সারা শরীরে দাগ। আর তোমার অনুমতি না পেলে আমি কাউকেই বিয়ে করতে পারবনা, যার ফলাফল হবে আরো মারের দাগ পড়বে আমার শরীরে। কি বলব বুঝতে পারছিলাম নাহ। হঠাত মাথায় আগুন চড়ে গেল। ওকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিলাম, ওর দিক...

ভালবাসার কথা

আমি ভুলব না সেই পড়ন্ত দুপুরে তোমার হাত ধরে সাগর পাড়ে বসে থাকা সেই ঝাউবনগুলোর নিচে। আসার পথে চেয়ে থাকা দুজন দুজনের চোখের দিকে আগামীকাল আর দেখবোনা বলে। আবার কবে দেখা হবে সেই চিন্তা আজকেই করে ফেলা। ফিরে যাবার বেলায় আমার দিকে তাকিয়ে থাকা চোখগুলো আমাকে আজও মনে করিয়ে দিয়ে যায় ভালবাসা সাময়িক। ঝাউবনগুলো হয়ে থাকবে আমাদের সাক্ষাত স্মৃতি। আমি ভুলতে না পারলেও কালের ঝাপটায় তুমি অনেক কিছুই ভুলেছো। বস্তবতা আমাকে অনেক কিছু জয় করতে শিখিয়ে দিয়েছে, সেই থেকে পাহাড় জয় আমার কাছে নেশা। তোমার চোখে শেষ ঠিকানা মনে করে আমার পথের সেই শুরু, দিন অনেক বদলে গিয়েছে, চোখের দেখা আর মনের পাওয়া এক যে না সেটা বুঝে ফেলার পর আমি শুধু ঝাউবনগুলোর কথা ভাবতাম আবার যদি একসাথে বসতে পারতাম আমরা। ইদানিং মাঝে মাঝে গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গিয়ে কেবল হাসি এসব মনে করে। ভেতর থেকে মানুষের মন খুব খারাপ হলে মানুষ অসহায়ের মত ঘুমায়। আশা নিরাশার জালে আমি বার বার জড়িয়েছিলাম, সেই তাড়না থেকে আজও আমি বার বার সাগরকে না বলে দিয়েছি। আর যখন গর্জে উঠবে বজ্রপাত, ভেবো ওই আলোর ভিতর ঝলসে উঠছি। তীব্র ঝোড়ো হাওয়ায় পাবে আমাকে।

রেণুকা মারা গেছে

প্রচন্ড মাথা ব্যথা শফিকের। কপালের দুপাশের দুটো রগ ক্ষণেক্ষণে তিরতির করে লাফিয়ে জানান দিচ্ছে ব্যাপারটা নিয়ে এইবার সিরিয়াসলি ভাবা দরকার.... চশমাটা না বদলালে এবার হচ্ছেই না! চশমাটা নাহয় বদল করলো, কিন্তু মাথার ভিতরে যে টেনশনটা কাজ করছে সেটা কিভাবে বদল করবে? . এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই ফজরের আজান পড়লো। রেণুকা ঘুমিয়ে আছে, প্রশান্তির ঘুম। এলোমেলো চুল ছড়িয়ে আছে বালিশে, মুখে লেপটে আছে মায়াবী হাসি। মেয়েটাকে দেখলে মনেই হয় না আর কিছুদিন পরে মেয়েটা মারা যাবে। যথাসম্ভব কম শব্দ করে ওজু করলো শফিক যাতে রেণুকার এতোটুকু ডিস্টার্ব না হয়। . মোনাজাত গিয়ে চোখের জলে আল্লাহ্‌কে জিজ্ঞাসা করলো কেন এতো নাটক? কি দরকার ছিলো এতো নাটকের? ভালোই তো ছিলো ওরা। স্কুলটায় ক্লাস করিয়ে দুটো টিউশনি করে বিকেলের আগেই বাসায় ফিরতো। যা টাকা পেতো ভালো করেই চলে যেতো ওদের। দেরি করলে রেণুকা বলতো এতো টাকা তো আমার দরকার নেই, আমার তো দরকার তোমাকে, তোমার সময়। দু চারটে টাকার জন্য আমাকে সময় দিচ্ছো না, আমি মরে গেলে করবা কি তখন এতো টাকা দিয়ে? একটু সময় তো দাও, একটু পাত্তা তো দাও! . সেই রেণুকা আজ মারা যাচ্ছে। শফিক চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে সেই...

আজ সেই মেয়েটির বিয়ে

৩ সপ্তাহ আগে আমার গার্লফ্রেন্ড এর বিয়ে ছিল! কিন্তু বিয়ে টা হয়নি। কারন, বিয়ের দিন আমি তাকে তুলে নিয়ে আসছিলাম।এবং কোর্ট ম্যারেজ করে ফেলি দুইজন! আমার বাবা মা বিষয়টা মেনে নিল না! বিধায় আমাকে বাসা থেকে বের করে দিল। অসহায় দুইটা প্রাণ ঘুরতেছিলাম.....! আমি ভাবলাম যত কষ্টই হোক,মেঘাকে একটা থাকার ব্যবস্থা আমাকে করে দিতেই হবে! হাতে কিছু টাকা ছিল।ঐই টাকা দিয়ে মেঘাকে একটা মহিলা মেসে তুলে দিলাম! আমার কাছে প্রায় সব টাকা শেষ। কথায় আছে বিপদে পড়লে বন্ধু চেনা যায়। একজন ও আমার পাশে এসে দাঁড়ায় নাই! কিনা করছি তাদের জন্য। যাই হোক, এটাই হয়ত পৃথিবীর নিয়ম।বড্ড স্বার্থবাদী এই পৃথিবীটা! এই দিকে রাত হয়ে গেল। হাতে একটা টাকাও নাই। সখের মোবাইল ফোনটা বেঁচে দিলাম রাস্তার টোকাই এর কাছে! টাকা হাতে আছে,কিন্তু খাইতে ইচ্ছা করছে না! ভাবছিলাম আমি যদি একটু কষ্ট করি, তাহলে মেঘা ভাল থাকবে। এরমধ্যে আমি একটা থার্ড ক্লাস মেসে উঠলাম! অন্তত আকাশের উপর ছাদ টা পেয়েছিলাম! খুব কষ্টে একটা হোটেলে ওয়েটারের চাকরী পেলাম! নিজেকে প্রশ্ন করলাম টাকাই কি সব কিছু? একদিন দুপুরে,হোটেল এ ১০ জন ফরেনার আসল! কিন্তু কেউ তাদের ...