সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

2013 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কিছু কথা বলছি শুধু “আমার” জন্যে-৪

এক দিন সন্ধ্যায় আমি অফিস করছিলাম, তুমি আমাকে ফোন করে বললে তোমার মন খারাপ। আমি বার বার জিজ্ঞাসা করেও বুঝতে পারছিলাম না কেন কি হল তোমার। চেষ্টা করলাম অনেক ভাবেই জানার জন্য- নাহ শেষে ফোনটা রেখে দিবো সেই সময় জানালে- কাল দেখা করতে পারবে? আমি বলি তুমি যা বলেছ বুঝে বলেছো? ও বলে হুম, দেখ না আসতে পারো কি না? রিলেশনটা হবার পর এই প্রথম দেখা হবে, তাও আবার হটাত করে এভাবে চিন্তা করিনি। রাতে আর জানাই নি আমি রওনা দিচ্ছি। ছুটি ছাটা ম্যনেজ করে রাতের গাড়ি শ্যামলী আলফা ১ টিকেট কাটলাম ঢাকা টু চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে। সকালে ভোর বেলা বাস থেকে নেমেই দিলাম কল- -কই তুমি? ও বলে -আমি ঘুমে। তুমি নাস্তা খাইছো? আজ অফিস নাই? সকালে ফোন দিলে যে আজ? আমি বলি কাল রাতের মন আজ সকালে ভালো হয়ে গেছে? ও বলে- হুম মন কাল খুব খারাপ ছিল তাই অনেক মিস করেছিলাম। আমি বলি -তাহলে আমি চলে গেলাম ঢাকা টা টা। ও এই কথা শুনে ও লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠেছে তা আমি ফোনেই বুঝতে পারি। যাই হোক টাইম পাস করার জন্যে তার বাসার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখি সে বের হচ্ছে। আমাকে দেখেই সেই কি দাঁত কেলানী হাসি। হা হা আমি বলি নাস্তা খাইছো...

কিছু কথা বলছি শুধু “আমার” জন্যে-৩

আগেরদিন তার সাথে ঝগড়া করে কাপ্তাই ঘুরে আসলাম, সাথে আমার ৩টা ফ্রেন্ড। কাপ্তাই নিয়ে আমার ট্রাভেল ব্লগ আমি এখনো লিখিনাই, পরে একদিন লিখে দিবো, কোথায় ঘুরবেন কোথায় যাবেন কি কি দেখবেন সব জানিয়ে দিবো নে, সাথে কিভাবে যাবেন, রাস্তার বর্ননা আর ড্রাইভারদের মাইকেল শুমাখার হবার গল্প। সে যাক গে আসল কথায় আসি, পরদিন সে আমার সাথে দেখা করতে চাইলো, আগের দিন সে তার কথা জানিয়ে দিয়েছে ব্রেক আপ হচ্ছে আমাদের। আমিও খুব কষ্টে পাথর হয়ে গেলাম। পরদিন ঠিকই বেহায়ার মত গেলাম আকাতারুজ্জামান মার্কেটে, আগ্রাবাদ। আমি আগে কোনদিন দেখা করতে তার সাথে মার্কেট তো দুরের কথা পাবলিক প্লেসে যাই নাই, যেহেতু এখন আর প্রেমের ভাবাবেগ নাই তাই তারপর ও গেলাম, তার মুখে একই কথা গুলো শুনে মেজাজটা আবার গেলো বিগ্রাইয়া। হাতের কাছে কফির মগ ছিল দিলাম ভেঙ্গে, পুরা মার্কেট তাকিয়ে রইলো আমাদের দিকে। মগ ভাঙ্গার সাথে সাথে ৭টা বছরের রিলেশনটাও গেলো ভেঙ্গে। সাথে সাথেই ঢাকার টিকেট কর্তন এবং ঢাকা ফেরত; আর রেখে আসলাম ৭টা বছরের স্মৃতি। কথাগুলো খুব স্বভাবিকভাবে জানাচ্ছিলাম তাকে (আমার ২য় জনকে!!) কোন এক বিকালে রিক্সায় যেতে যেতে সেটা...

কিছু কথা বলছি শুধু “আমার” জন্যে-২

সূচনা লিখতে লিখতেই আমি এমন কিছুদিনের মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম, যা শুধু অনুভব করা যাবে আসলে লিখা যাবে না। লিখার চেষ্টা করার আগে কিছু কথা রইলো বাকি। সেগুলো গুছিয়ে লিখার মত আমার হয়ত সেই হাত নেই, তারপরও মনে হতে পারে আগা নাই মাথা নাই কি পাগলের প্রলাপ বকছি। আমি আমার মতই লিখে দিচ্ছি। কারো নাম প্রকাশে আমি ইচ্ছুক নই, তাই হয়ত আমি সে ও তুমি ইউজ করবো। আসলে গল্প লিখা সহজ কিন্তু নিজের কিছু সুখের কথা শেয়ার করা অনেক জটিল একটা কাজ বুঝতে পারছি নিজে লিখতে বসে। চট্রগ্রাম আমার লাইফের সেরা কিছু সময়ের সাক্ষী। ফেনী আমার এখন ভাল লাগে না, আগে ফেনীকে খুব মিস করতাম, এখন অসহ্য লাগে। নামটা শুনলেই জানি কেমন লাগে। কার কেমন লাগে সেটা জানি না। আমি চট্রগ্রামকে ভালো করে চিনেছিলাম ২০০৮ সালে, প্রাইভেট পড়িয়ে কিছু পয়সা পাতি জমিয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম ট্রাভেল করে প্রেম করা পাবলিক আমি। নিজের সাহস চিন্তা করলে এখন ভাবি আমিই কি সেই? গত পোস্টে আমি কিছু সূচনা লিখতে গিয়ে কি সব যে বললাম, অনেকে হয়ত ভাববে নিজেকে আমি অনেক পিএইচডি মনে করি এই প্রেমে। হাহা। এরকম ভাবার কোন কারন নেই, আসলে আমি অনেক বোকা এই বিষয়ে। রুবেল ...

কিছু কথা বলছি শুধু “আমার” জন্যে

শিরোনামটা শিরোনামহীনের “কিছু কথা বলছি শুধু তোমার জন্যে” থেকে নিলাম, তোমার জন্যে তো অনেক লিখেছি আজ না হয় আমার জন্যেই লিখি? অবাধ্য কিছু স্বপ্ন নিয়ে একলা চলা নিবিড় জনারণ্যে, মেঘলা এই ক্ষণে কিছু কথা কখনো হয়নি বলা, সেই থেকে আমার শুরু। “দ্বিতীয় প্রেম সেখানেই শুরু যেখানে আমার প্রথম প্রেম শেষ হল” কথাটা কেমন জানি লাগলো আমার নিজের কাছেই। যারা আমার খুব কাছের মানুষ (২/৪ জন) তারা বিষয়টা প্রথম লাইন পড়েই বুঝবে, আমি কার কার কথা বলছি। অনেকে ভাববে আমি হয়ত বিশ্ব প্রেমিক। একজন বলেছে আবার- “একজন ছেলে কয়টা মেয়েকে ভালবাসতে পারে?” প্রশ্নটা আসলেই আমাকে কয়েকদিন ভাবিয়েছে, যে আমাকে কথাটা বলেছে সে আবার আমার দুইজন সাবেক প্রেমিকাকে চিনে ফেলেছে! এপিক। তার সাথে আমার কথা হল ৯ বছর পর, এই ৯ বছরে সে আমাকে ভুলেই গিয়েছিল, তাকে লাস্ট মনে করিয়ে দেবার পর মাঝের ৯ বছরের কাহিনী শুনালাম তার পরপরই তার এই স্বর্গ-উক্তি। অনেকে আমাকে গালিও দিয়েছে দ্বিতীয় প্রেমে পড়ার জন্যে, গরম গরম কথা বলি, কাল তো আমার কাছের একজন বলল- তুই আর প্রেমে পড়লে আমি ভাববো তুই “অমানুষ”। হাসলাম অনেক কথাটা শুনে, আসলে কিছু কথা ...

পরিবার-ভালবাসা-রেস্পেক্ট

পরিবার মানে আমরা বাবা মা ভাই বোনকে নিয়ে বুঝিয়ে থাকি, পরিবারটা সুখের হয় যখন রেস্পেক্ট থাকে ভালবাসা থাকে। মেয়ের বিয়ের বেলায় বাবা মায়ের অনেক দায়িত্ব, অনূরুপ ছেলেকে বিয়ে করাতে গেলেও হাজার চিন্তা। এখনকার ছেলে মেয়েদের পছন্দ থাকে, অনেকের থাকে না, আমি মনে করি যার থাকে না সে অভাগা। জীবনে ১বার প্রেম করে হারিয়েছি, ২য় বার আর সেই পথে পা মাড়াইনি। নাহ, সেটা মনে হয় আমার দ্বারা হবে না করতে করতে ২য় বার আবারো সেই ভালো লাগা। নাহ এটাকে প্রেম বলবো না- ৬মাসে ১ বছরে দেখা, কথা নাই, যোগাযোগ নাই এটাকে প্রেম বলাটা বেমানান। একদিন হটাৎ করে ফ্রেন্ড থেকে বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে গেলাম, সেই থেকে একটু একটু করে কথাবার্তা হল- নাহ সেই ভালো লাগা বেশি দিন টিকে নি। হারিয়ে গেলো। আবার হতাশা। হটাৎ একদিন যখন তাকে খুঁজে পেলাম তখন অনেকগুলো সময় হারিয়ে গেলো, বয়স হয়েছে ২ জনেরই, কেউ কাউকে ভালো লাগার কথা আর বলি না। মনে মনে কেন জানি চিন্তা হল তাকে ফিরে পাবার কারন টা কি? লাইফে কি তাকে আবার পাবার আশা করতে পারি আমি? বলে দেখবো? একটু কি সিরিয়াস হবো এবার আমরা? ভাবতে লাগলাম দুজনই। ভেবে বের করলাম এবার সিরিয়াসলি পরিবারকে জানাই- কিন্তু পরিবার...

“লেট নাইট”

একটা কল সেন্টার খুব পরিচিত নাম।   আমরা যারা ২৪/৭ সার্ভিস দিচ্ছি গ্রাহকদের খুব কাছে রাখার জন্য , রাতের ঘুম হারাম করে , আবেগকে দূরে ঠেলে আমরা কাজ করে যাচ্ছি দিন-রাত। অনেকে যারা মনে করে রাতের বেলা আবার কে কল দেয় তাদের কথা না হয় আজ নাই বললাম- রাতের কথা বলতেই হচ্ছে কারন মানুষ রাতের বেলা খুব দরকার হলে অথবা বিপদে না পড়লে হটলাইনে কল দেয় না। হাজারো প্রশ্নের ভিড়ে একটা কলের কথা না বললেই নয় আজ- রাত তখন ২.৩০ এর কাছাকাছি , প্রায় ৭০ জন গ্রাহককে সার্ভিস দেয়া শেষ অলরেডী। হটাৎ করে একজন কল দিয়ে বলে , - ভাই এটা কি গ্রামীনফোন ? - জি স্যার , বলুন আপনাকে কিভাবে সহযোগিতা করতে পারি ? - ভাই আমাদের বাঁচান - কেন স্যার কি হয়েছে বলুন ? - স্যার আপনে আমাকে ফায়ার সার্ভিসের নাম্বার দেন , আমাদের মিরপুরে আগুন লাগসে , বাংলালিঙ্কের ১২১-এ কল দিলাম , ওরা আমাকে ভুল নাম্বার দিছে , আপনার কাছে অনুরোধ আমাকে সঠিক নাম্বার দেন.. - ঠিক আছে স্যার একটু অপেক্ষা করুন আমি দেখছি ভদ্রলোকটি আর বেশি কিছু বলতে পারছিল না , উনার সারা শরীর কাঁপছিল আর কথাও বলতে পারছিল না গলা কাঁপছিল- আমি সময় নিয়ে ডিরেক্টরি থেকে মিরপুরে...